সরাসরি মূল কনটেন্টে যান (Skip to content)
প্রশ্নোত্তর ও তথ্যভাণ্ডার

প্যারেন্টিং সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সমাধান

নবজাতকের প্রাথমিক যত্ন, খাবার, ঘুম ও স্বাস্থ্য বিষয়ে বাংলাদেশের বাবা-মায়েদের সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের সহজ ও ব্যবহারিক উত্তর।

সর্বমোট 42টি সাধারণ প্রশ্ন ও সমাধান প্রদর্শিত হচ্ছে

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মর্নিং সিকনেস বা বমি বমি ভাব কমাতে কী করব?

একবারে বেশি না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে বারবার শুকনা খাবার (যেমন টোস্ট বিস্কুট, মুড়ি) খাওয়া এবং আদা-চা পান করা বমি ভাব কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় কোন পজিশনে ঘুমানো সবচেয়ে নিরাপদ?

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার (১৬ সপ্তাহ) থেকে বাঁ-কাত হয়ে ঘুমানো (Left-side sleeping) সবচেয়ে নিরাপদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দেশিত পজিশন।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?

কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম ও মাংস, অপাস্তুরিত দুধ ও তা দিয়ে তৈরি পনির, কাঁচা পেঁপে এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন (চা/কফি) গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভবতী হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ কী এবং প্রেগনেন্সি টেস্ট কখন করা সবচেয়ে ভালো?

মাসিক বা পিরিয়ড মিস হওয়া গর্ভাবস্থার প্রধান লক্ষণ। এছাড়া বমি ভাব, স্তনে ব্যথা বা ভারী ভাব, দ্রুত ক্লান্ত হওয়া ও ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। পিরিয়ড মিসের ১ সপ্তাহ পর সকালের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে টেস্ট করা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় কোন কোন উপসর্গকে বিপদ চিহ্ন (Danger Signs) বলা হয়?

যোনিপথে রক্তপাত, তীব্র তলপেটে ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র মাথাব্যথা, হাত-পা-মুখ হঠাৎ ফুলে যাওয়া, তীব্র জ্বর এবং বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া গর্ভাবস্থার প্রধান বিপদ চিহ্ন।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিনের খাবার তালিকা কেমন হওয়া উচিত এবং বাড়তি ক্যালরি কতটুকু লাগে?

গর্ভবতী মায়ের আলাদা দুজনের খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথম তিন মাসে স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট; দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৩৪০ থেকে ৪৫০ ক্যালরি পুষ্টিকর খাবার (যেমন ১ গ্লাস দুধ ও ১টি ডিম) খেলেই চলে।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় পেট টান-টান বা শক্ত হয়ে যাওয়া কি স্বাভাবিক? এটি কি প্রসববেদনা?

গর্ভাবস্থার মাঝামাঝি (১৬–২০ সপ্তাহ পর) পেট মাঝে মাঝে কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য শক্ত হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, একে ব্র্যাক্সটন হিকস বা মিথ্যা প্রসববেদনা বলা হয়।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরম লাগা ও বেশি ঘাম হওয়া কেন হয় এবং এতে কী করণীয়?

গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পায় এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের কারণে মেটাবলিক রেট বেড়ে যায়, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সামান্য বেশি অনুভূত হয়।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বা 'প্রেগনেন্সি ব্রেন' কেন হয়?

হরমোনের ব্যাপক তারতম্য, নির্ঘুম রাত এবং অনাগত সন্তানকে নিয়ে মানসিক ভাবনার কারণে গর্ভাবস্থায় সাময়িক মনোযোগের অভাব বা ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় হঠাৎ হাত থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া বা হাঁটায় ভারসাম্য হারানোর কারণ কী?

গর্ভাবস্থায় রিলাক্সিন (Relaxin) হরমোনের প্রভাবে শরীরের জয়েন্ট ও লিগামেন্ট আলগা হয়ে যায় এবং পেটের আকার বাড়ায় শরীরের সেন্টার অব গ্র্যাভিটি বদলে যায়, যার ফলে ভারসাম্য রক্ষা কিছুটা কঠিন হয়।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড টেস্ট (TSH) করা কেন এত জরুরি?

প্রথম তিন মাসে গর্ভের শিশুর নিজস্ব থাইরয়েড তৈরি হয় না; ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠন ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশের জন্য মায়ের থাইরয়েড হরমোন শতভাগ অপরিহার্য।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভে বাচ্চার নড়াচড়া কখন থেকে বোঝা যায় এবং দিনে কতবার নড়াচড়া স্বাভাবিক?

সাধারণত ১৮ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম নড়াচড়া অনুভূত হয়। ২৮ সপ্তাহের পর থেকে সুস্থ বাচ্চা সাধারণত দিনে বা খাবারের পর ২ ঘণ্টায় অন্তত ১০ বার নড়ে।

গর্ভকালীন যত্ন

স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়াতে গর্ভকালীন সময়ে কী কী করণীয়?

চিকিৎসকের কোনো জটিলতার নিষেধাজ্ঞা না থাকলে সক্রিয় জীবনযাপন, নিয়মিত হালকা হাঁটা, পেলভিক পেশির ব্যায়াম (কেগেল ও স্কোয়াট) এবং প্রসবের সঠিক মানসিক প্রস্তুতি নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ায়।

গর্ভকালীন যত্ন

প্রসবের পর রক্তক্ষরণ (Lochia) কত দিন পর্যন্ত থাকা স্বাভাবিক এবং কখন বিপদ?

প্রসবের পর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত যোনিপথে হালকা রক্তক্ষরণ ও স্রাব (Lochia) হওয়া স্বাভাবিক। এটি সময়ের সাথে সাথে গাঢ় লাল থেকে হালকা বাদামি ও হলদেটে-সাদা বর্ণ ধারণ করে।

গর্ভকালীন যত্ন

সন্তান জন্মের পর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিরাপদ?

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রোজেস্টিন-অনলি পিল (POP বা মিনিপিল), কনডম, বা কপার-টি (IUD) সবচেয়ে নিরাপদ; কম্বাইন্ড ইস্ট্রোজেন পিল পরিহার করা আবশ্যক।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভপাতের (Miscarriage) প্রাথমিক লক্ষণ কী এবং পরবর্তীতে পুনরায় গর্ভধারণের নিরাপদ সময় কখন?

যোনিপথে রক্তপাত বা চাকা রক্ত যাওয়া এবং তলপেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা গর্ভপাতের প্রধান লক্ষণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস বিরতি দিয়ে পরবর্তী গর্ভধারণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

গর্ভকালীন যত্ন

গর্ভাবস্থায় ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে কী করণীয় এবং কোন ওষুধটি নিষিদ্ধ?

প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর পর্যাপ্ত ওরাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন (ORS) ও তরল পান করে পানিশূন্যতা রোধ করাই প্রধান কাজ। চিকিৎসকের স্পষ্ট প্রেসক্রিপশন ছাড়া মেট্রোনিডাজল বা কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের নাভি শুকাতে কত দিন লাগে এবং কীভাবে যত্ন নেব?

নবজাতকের নাভির কর্ড সাধারণত জন্মের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শুকিয়ে স্বাভাবিকভাবে খসে পড়ে। এ সময় নাভি সবসময় পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে এবং কোনো মলম বা তেল লাগানো যাবে না।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতককে কি সরিষার তেল মালিশ করা নিরাপদ?

না, নবজাতকের সংবেদনশীল ত্বকে সরিষার তেল মালিশ করা নিরাপদ নয়। সরিষার ঝাঁজ ও অ্যাসিড শিশুর পাতলা ত্বকে অ্যালার্জি, র‍্যাশ ও ত্বকের স্বাভাবিক ব্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের মাথার নরম অংশ (তালু/ফন্টানেল) নিয়ে কি ভয় পাওয়ার কিছু আছে?

নবজাতকের মাথার নরম অংশকে 'ফন্টানেল' (Fontanelle) বলা হয়, যা স্বাভাবিক মস্তিষ্কের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য জরুরি। এটি সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে নিজে থেকেই হাড় শক্ত হয়ে জোড়া লেগে যায়।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতক দিনে কতবার প্রস্রাব বা পায়খানা করলে বুঝব সে সুস্থ?

জন্মের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬ থেকে ৮ বার প্রস্রাব করা শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাওয়ার ও সুস্থতার প্রধান লক্ষণ।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতককে কীভাবে আরামদায়ক ও নিরাপদভাবে জড়াবেন (Swaddle)?

পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে হাত দুটি আলতোভাবে শরীরের সাথে জড়িয়ে দিন কিন্তু কোমর ও পায়ের অংশ ঢিলেঢালা রাখুন যাতে পা বাঁকাতে পারে। এটি চমকে ওঠা (Moro reflex) বন্ধ করে শিশুকে গর্ভের মতো প্রশান্তি দেয়।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতক একটানা কান্না করলে শান্ত করার বৈজ্ঞানিক উপায় কী (৫-S পদ্ধতি)?

ডা. হার্ভি কার্পের বৈজ্ঞানিক ৫-S পদ্ধতি অনুযায়ী: সোয়াডল করা, বাহুর ওপর পাশে কাত করে ধরা, কানের কাছে মৃদু শ্বুশ (Shush) শব্দ করা, আলতো ছন্দে দোলানো এবং চোষার অনুভূতি দেওয়া দ্রুত কান্না শান্ত করে।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতক দিনে-রাতে কত ঘণ্টা ঘুমায় এবং দিন-রাতের বোধ তৈরি হতে কত দিন লাগে?

জন্মের প্রথম মাসে নবজাতক ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমায়। তবে তা ২-৩ ঘণ্টার ছোট ছোট সাইকেলে বিভক্ত থাকে। দিন ও রাতের পার্থক্য বুঝতে শিশুর প্রায় ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগে।

নবজাতকের যত্ন

ডায়াপার র‍্যাশ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?

প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর ডায়াপার পরিবর্তন করা, কুসুম গরম পানি ও সুতি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে বাতাসে শুকিয়ে নেওয়া এবং জিংক অক্সাইড বা খাঁটি ভ্যাসলিন লাগানো সবচেয়ে সেরা উপায়।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতককে জন্মের কত দিন পর এবং সপ্তাহে কতবার গোসল করানো উচিত?

নাভি পড়ার আগ পর্যন্ত পানিতে ডুবিয়ে গোসল না করিয়ে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে (স্পঞ্জ বাথ) দেওয়া নিরাপদ। নাভি খসে পড়ার পর সপ্তাহে ২-৩ বার গোসলই যথেষ্ট।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতক ঘন ঘন হাঁচি দেয় ও দ্রুত শ্বাস নেয় কেন? এটি কি ঠান্ডার লক্ষণ?

নবজাতক নাক দিয়ে শ্বাস নেয় এবং তার নাকের পথ খুব সরু হওয়ায় ধুলাবালি বা দুধের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে স্বাভাবিক রিফ্লেক্স হিসেবে ঘন ঘন হাঁচি দেয়। মিনিটে ৪০-৬০ বার শ্বাস নেওয়া নবজাতকের জন্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

নবজাতকের যত্ন

নবজাতকের মাথার পেছনের অংশ চ্যাপ্টা হওয়া রোধ করতে 'টামি টাইম' কখন ও কীভাবে দেব?

শিশু জেগে থাকা অবস্থায় এবং আপনার চোখের সামনে দিনে ২-৩ বার কয়েক মিনিটের জন্য পেটের ওপর উপুড় করে শুইয়ে দেওয়াকে 'টামি টাইম' বলা হয়। এটি ঘাড়ের পেশি শক্ত করে এবং মাথার আকৃতি সুন্দর রাখে।

নবজাতকের যত্ন

শিশুর এক বা দুই চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া ও পিঁচুটি জমার কারণ কী?

নবজাতকের চোখের অশ্রুনালী (Nasolacrimal duct) জন্মগতভাবে সরু বা বন্ধ থাকার কারণে অতিরিক্ত পানি ও পিঁচুটি জমে। এটি প্রায় ২০% শিশুর ক্ষেত্রেই ঘটে এবং সাধারণত এক বছরের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

৬ মাসের আগে শিশুকে কি এক ফোঁটাও পানি খাওয়ানো যাবে?

না, জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুকে এক ফোঁটা পানিও দেওয়া যাবে না। এমনকি প্রচণ্ড গরমের দিনেও শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধেই শিশুর পানির যাবতীয় চাহিদা শতভাগ পূরণ হয়।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

মা অসুস্থ হলে (সর্দি, কাশি, জ্বর বা ডায়রিয়া) কি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে?

হ্যাঁ, মা সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অত্যন্ত জরুরি। মায়ের শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি বুকের দুধের মাধ্যমে গিয়ে শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

জন্মের পর প্রথম শালদুধ (Colostrum) খাওয়ানো কেন শিশুর জীবনের প্রথম টিকা?

জন্মের প্রথম কয়েক দিনে মায়ের বুক থেকে যে গাঢ় হলুদাভ ঘন দুধ আসে তাকে শালদুধ বলে। এতে প্রচুর অ্যান্টিবডি (IgA) ও শ্বেতকণিকা থাকে, যা শিশুর অন্ত্রের গায়ে সুরক্ষামূলক প্রাচীর গড়ে তোলে।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

দুধ খাওয়ানোর পর ঢেকুর (Burping) তোলানো কেন জরুরি এবং কীভাবে তুলবেন?

দুধ খাওয়ার সময় শিশু যে বাতাস গিলে ফেলে তা ঢেকুরের মাধ্যমে বের না করলে পেটে তীব্র গ্যাস জমে পেট ফাঁপে, দুধ তুলে ফেলে (Spit up) এবং ব্যথায় একটানা কান্না করে।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

পূর্ণ ৬ মাস (১৮০ দিন) পর শিশুকে প্রথম কোন সলিড খাবার কীভাবে শুরু করবেন?

১৮০ দিন পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি নরম চটকানো ঘরে রান্না করা খাবার শুরু করুন। নরম চালের জাউ, আলু ও ডালের নরম খিচুড়ি (সামান্য তেলসহ), ডিমের কুসুম ও কলা দিয়ে শুরু করা সবচেয়ে ভালো।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

নবজাতকের জন্ডিস হলে কীভাবে বুঝবেন এবং কখন ফটোথেরাপি প্রয়োজন?

জন্মের ২-৩ দিনের মাথায় প্রায় ৬০% শিশুর চোখ ও ত্বক হালকা হলুদ হতে পারে (ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস)। ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে প্রস্রাব-পায়খানার সাথে বিলিরুবিন বের হয়ে এটি ১-২ সপ্তাহে সেরে যায়।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর জ্বর আসলে ঘরে বসে কীভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনবেন?

কুসুম গরম পানিতে নরম সুতি তোয়ালে ভিজিয়ে হালকা চিপে শিশুর কপাল, ঘাড়, বগল ও কুঁচকি আলতো করে মুছে দিন (Tepid Sponging)। বরফ বা ঠান্ডা পানি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে স্যালাইন ও জিংক কীভাবে দেবেন?

ডায়রিয়ায় প্রধান কাজ হলো পানিশূন্যতা রোধ করা। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর বয়স অনুযায়ী খাবার স্যালাইন (ORS) এবং টানা ১০ থেকে ১৪ দিন জিংক সিরাপ খাওয়াতে হবে।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

নবজাতক ও শিশুদের কি ভিটামিন ডি ড্রপ দেওয়া জরুরি?

হ্যাঁ, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP) ও WHO নির্দেশিকা অনুযায়ী বুকের দুধ পাওয়া শিশুদের জন্মের কয়েক দিন পর থেকেই প্রতিদিন ৪০০ IU ভিটামিন ডি ড্রপ দেওয়া সুপারিশ করা হয়।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর দাঁত ওঠার স্বাভাবিক সময় কখন এবং মাড়ির অস্বস্তি কীভাবে কমাবেন?

সাধারণত ৬ থেকে ১০ মাসের মধ্যে শিশুর নিচের পাটির সামনের দুটি দাঁত ওঠে। মাড়ির চুলকানি ও অস্বস্তি কমাতে পরিষ্কার সিলিকন টিথার ফ্রিজে ঠান্ডা করে কামড়াতে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে আরাম দেওয়া যায়?

শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়া শিশু ৩-৫ দিনে একবার নরম পায়খানা করলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য নয়। শক্ত, শুকনো ও ব্যথাদায়ক মল হলে ৬ মাসের বড় শিশুকে বেশি পানি, পেঁপে, আলু বোখারা ও শাকসবজির আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ান।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর সরকারি টিকার (EPI) ডেট মিস হলে বা কার্ড হারালে কী করব?

কোনো টিকার ডেট মিস হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিকটস্থ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীকে জানালেই তারা পরবর্তী তারিখে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য

শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ওজন বাড়ার সঠিক মাপকাঠি কী?

জন্মের প্রথম সপ্তাহে শিশুর ওজনের ৫–১০% কমা স্বাভাবিক, যা ১০–১৪ দিনে ফিরে আসে। এরপর প্রথম ৩ মাসে প্রতিদিন গড়ে ২৫–৩০ গ্রাম ওজন বাড়ে এবং ১ বছর বয়সে শিশুর ওজন জন্মের ওজনের প্রায় ৩ গুণ হয়।

মনে রাখবেন: Adorly-র প্রশ্নোত্তর সাধারণ অভিভাবকত্ব সচেতনতা ও প্রাথমিক যত্নের জন্য রচিত। শিশুর তীব্র জ্বর, দীর্ঘমেয়াদী পেটের সমস্যা বা যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতাল বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।